বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে ঢাকা ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৫টির বেশি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল সইয়ের পাশাপাশি একটি যৌথ ইশতেহার ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঘোষিত এই যৌথ ইশতেহার হবে দুই দেশের মধ্যে তৃতীয় যৌথ ঘোষণা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতা নয়, বরং রাজনৈতিক ও ভূকৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করছে। পাঁচ দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরটি তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর হওয়ায় এর রাজনৈতিক গুরুত্ব বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, চীনা ভাষা শিক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভূতাত্ত্বিক জরিপ, কারিগরি শিক্ষা এবং গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই)-এ বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ঘোষণাও আসতে পারে। প্রায় এক দশক পর চীনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন কৌশলগত মাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘সামার ডাভোস’ বা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভায় অংশ নেবেন। পরে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে যোগ দিয়ে তিনি চীনের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Ovoy Sarker